মাসায়েল ২৪
সহযোগিতা
শুক্রবার, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
প্রশ্ন করুন

সংবাদ প্রচারের শরয়ী নীতিমালা ও সামাজিক দায়বোধ

মুফতি শরীফ মালিক
•
৬ নভেম্বর, ২০২৬
১৬৮ বার পঠিত
সংবাদ প্রচারের শরয়ী নীতিমালা ও সামাজিক দায়বোধ
শেয়ার করুন:
نحمده ونصلي على رسوله الكريم، أما بعد

ভূমিকা

বর্তমান বিশ্বে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস, মতামত ও সামাজিক আচরণ গঠনের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (টুইটার) কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ—সব মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত অসংখ্য সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিও ও মতামত ছড়িয়ে পড়ছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন একজন সাধারণ মানুষও মুহূর্তের মধ্যে একটি সংবাদ হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন।

কিন্তু এই সহজলভ্যতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ কিছু সামাজিক ও নৈতিক সংকট। যাচাই-বাছাই ছাড়াই সংবাদ বিশ্বাস করা, আবেগের বশবর্তী হয়ে শেয়ার করা, গুজব ছড়ানো, মিথ্যা অপবাদ প্রচার, কারও ব্যক্তিগত সম্মানহানি এবং ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেক সময় মানুষ কোনো সংবাদ নিজে তৈরি না করলেও শুধু অন্যের কাছ থেকে শুনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখে তা প্রচার করে। অথচ ইসলামে সংবাদ গ্রহণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই, সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা এবং পরিণতি বিবেচনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি মৌলিক হাদিস এ বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

১. সংবাদ যাচাইয়ের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِن جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَن تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ ‎﴿٦﴾

অর্থ: “হে মুমিনগণ! যদি কোনো ফাসিক ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও; যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।” (সুরা আল-হুজুরাত: ৬)

এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আয়াতটির মূল শিক্ষা হলো, কোনো সংবাদ পাওয়ামাত্রই সেটিকে সত্য বলে গ্রহণ করা কিংবা তার ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না; বরং সংবাদটির সত্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতে হবে।

আয়াতের মধ্যে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—

ক. সংবাদদাতার বিশ্বস্ততা বিবেচনা: সংবাদদাতা নির্ভরযোগ্য কি না, তার সততা ও উদ্দেশ্য কী—তা বিবেচনা করতে হবে।

খ. সংবাদ যাচাই করা: সংবাদটি বাস্তবসম্মত কি না এবং এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করতে হবে।

গ. ক্ষতির আশঙ্কা বিবেচনা: যাচাইবিহীন সংবাদ প্রচারের কারণে কোনো ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান কিংবা সম্প্রদায়ের ক্ষতি হতে পারে কি না, তা চিন্তা করতে হবে।

ঘ. পরিণতির ব্যাপারে সতর্কতা: ভুল সংবাদ প্রচারের কারণে পরবর্তী সময়ে অনুতপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আবেগের পরিবর্তে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আয়াতটি যদিও বিশেষভাবে ফাসিক ব্যক্তির সংবাদ যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছে, কিন্তু এর শিক্ষা কেবল ফাসিক ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংবাদদাতা পরিচিত, জনপ্রিয়, প্রভাবশালী কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম হলেও সংবাদটি সন্দেহজনক হলে বা গুরুতর পরিণতি সৃষ্টি করতে পারে এমন হলে যথাযথ যাচাই জরুরি।

২. যাচাই ছাড়া সব কথা প্রচারের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর সতর্কবাণী

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—

كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ

অর্থ: “কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা কিছু শোনে, সবই প্রচার করে বেড়ায়।”

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫)

ইমাম মুসলিম (রহ.) তাঁর সহিহ গ্রন্থের ভূমিকায় এ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

এ হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৈতিক ও শরয়ী নীতি তুলে ধরেছেন। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি নিজে মিথ্যা কথা তৈরি না করলেও যদি যাচাই-বাছাই ছাড়াই অন্যের কাছ থেকে শোনা প্রতিটি কথা প্রচার করতে থাকে, তাহলে সে মিথ্যা প্রচারের অংশীদার হয়ে যেতে পারে।

কারণ, তার প্রচারিত কথার মধ্যে মিথ্যা, ভুল তথ্য, অতিরঞ্জন, অপবাদ ও ভিত্তিহীন অভিযোগ থাকার যথেষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।

এখানে লক্ষণীয়, হাদিসে শুধু মিথ্যা তৈরি করাকে নিন্দা করা হয়নি; বরং যাচাই ছাড়াই সব শোনা কথা প্রচার করার প্রবণতাকেও মিথ্যাবাদিতার জন্য যথেষ্ট বলা হয়েছে।

অতএব, ‘আমি তো নিজে বানিয়ে বলিনি, অন্যের কাছ থেকে পেয়েছি’—এ অজুহাতে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।

৩. গণমাধ্যমের সংবাদ বিশ্বাস ও প্রচারের শরয়ী বিধান

ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো সংবাদ গ্রহণ, বিশ্বাস, প্রচার কিংবা তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ—এগুলো এক বিষয় নয়। প্রতিটির ক্ষেত্রে পৃথক দায়িত্ব ও বিধান রয়েছে।

ক. যাচাই ছাড়া সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করা

কোনো ব্যক্তি বা গণমাধ্যমের প্রচারিত সংবাদকে যথাযথ প্রমাণ ছাড়াই নিশ্চিত সত্য বলে বিশ্বাস করা দায়িত্বশীল মুমিনের আচরণ নয়। বিশেষত সংবাদটি যদি কোনো ব্যক্তির চরিত্র, সম্মান, ধর্মীয় অবস্থান, সামাজিক মর্যাদা কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তাহলে যাচাই ছাড়া তা বিশ্বাস করা আরও বিপজ্জনক।

কেননা, অনুমান ও ধারণার ওপর ভিত্তি করে মানুষের ব্যাপারে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করেছেন।

ইরশাদ হয়েছে—

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ

অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা পাপ।” (সুরা আল-হুজুরাত: ১২)

অতএব, কোনো সংবাদ শুধু প্রচারিত হয়েছে বলেই তা সত্য হয়ে যায় না। আবার কোনো সংবাদ জনপ্রিয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেও তার সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয় না।

খ. যাচাই ছাড়া সংবাদ শেয়ার বা প্রচার করা

কোনো সংবাদ নিজে তৈরি করা এবং অন্যের তৈরি সংবাদ প্রচার করা—দুটির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও মিথ্যা বা ক্ষতিকর সংবাদ প্রচারের দায় থেকে প্রচারকারী মুক্ত নয়।

বিশেষত কোনো সংবাদ মিথ্যা, অপবাদমূলক কিংবা মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও যাচাই না করে তা প্রচার করা শরীয়তের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় এবং পরিস্থিতি ও পরিণতি অনুসারে হারামও হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُمْ مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ

অর্থ: “যখন তোমরা তা মুখে মুখে প্রচার করছিলে এবং এমন কথা মুখে বলছিলে, যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ আল্লাহর কাছে তা ছিল অত্যন্ত গুরুতর।” (সুরা আন-নূর: ১৫)

এ আয়াতটি ইফকের ঘটনায় অবতীর্ণ হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে পড়লে কিছু মানুষ যাচাই ছাড়াই তা একে অপরের কাছে প্রচার করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা এ আচরণের কঠোর নিন্দা করেন।

এখান থেকে বোঝা যায়, কোনো সংবাদ নিজে তৈরি না করলেও কেবল মুখে মুখে বা মাধ্যম থেকে মাধ্যমে প্রচার করার কারণে মানুষ গুরুতর গুনাহে জড়িয়ে পড়তে পারে।

গ. মিথ্যা সংবাদ প্রচারে সহযোগিতা করা

কোনো ব্যক্তি মিথ্যা সংবাদ তৈরি করল, আরেকজন সেটি ছড়িয়ে দিল, তৃতীয়জন সেটি শেয়ার করল এবং চতুর্থজন মন্তব্যের মাধ্যমে আরও প্রচার করল—এভাবে প্রত্যেকেই মিথ্যা ও অন্যায়ের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ

অর্থ: “তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।” (সুরা আল-মায়িদা: ২)

সুতরাং মিথ্যা, অপবাদ, উসকানি, বিদ্বেষ ও অন্যায় প্রচারের কাজে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার, ফরওয়ার্ড কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

ঘ. সত্য সংবাদ হলেও সব সংবাদ প্রচার করা বৈধ নয়

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—কোনো সংবাদ সত্য হলেই তা প্রচার করা বৈধ হয়ে যায় না।

কোনো ব্যক্তির গোপনীয়তা, ব্যক্তিগত দোষ, পারিবারিক বিষয় কিংবা এমন কোনো তথ্য যা প্রকাশ করলে অযথা সম্মানহানি বা ক্ষতি হবে, তা প্রকাশের জন্য শরয়ী ও নৈতিক বৈধতা থাকা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا

অর্থ: “তোমরা একে অপরের গিবত করো না।” (সুরা আল-হুজুরাত: ১২)

অতএব, কোনো ব্যক্তির প্রকৃত দোষও অপ্রয়োজনে প্রচার করা গিবত ও সম্মানহানির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে জনস্বার্থ রক্ষা, অন্যায় প্রতিরোধ, বিচারপ্রার্থনা, সতর্কীকরণ কিংবা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার মতো স্বীকৃত শরয়ী কারণ থাকলে প্রয়োজনের সীমায় তা অনুমোদিত হতে পারে।

ঙ. সংবাদ প্রচারের নিয়ত ও উদ্দেশ্যও বিবেচ্য

কেউ যদি কোনো সংবাদ প্রচার করে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে, কোনো ব্যক্তিকে হেয় করতে, কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াতে কিংবা সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাহলে তার উদ্দেশ্যও গুনাহের কারণ হবে।

আবার কেউ যদি ভালো উদ্দেশ্যে সংবাদ প্রচার করে, কিন্তু সংবাদটি যাচাই না করার কারণে মানুষের ক্ষতি হয়, তাহলে শুধু ভালো নিয়ত তাকে দায়মুক্ত করবে না। ইসলামে নিয়তের পাশাপাশি কাজের বৈধতা, পদ্ধতি এবং পরিণতিও বিবেচিত হয়।

৪. গণমাধ্যমের সংবাদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা

বর্তমানে অনেকেই মনে করেন, কোনো সংবাদ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছে, জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে কিংবা বড় কোনো অনলাইন পোর্টালে এসেছে—সুতরাং সেটি অবশ্যই সত্য। এ ধারণা সঠিক নয়।

গণমাধ্যমেরও ভুল হতে পারে। সংবাদদাতার ভুল, সম্পাদনার ত্রুটি, অসম্পূর্ণ তথ্য, একপক্ষীয় বক্তব্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন কিংবা বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে সংবাদ বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

এ কারণে সংবাদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা জরুরি—

১. সংবাদটির মূল উৎস কী এবং তথ্যদাতা কতটা নির্ভরযোগ্য?

২. সংবাদটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে কি না?

৩. সংবাদটির পক্ষে নির্ভরযোগ্য দলিল, প্রমাণ বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য রয়েছে কি না?

৪. সংবাদটি অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে কি না?

৫. সংবাদটির শিরোনাম ও মূল প্রতিবেদনের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না?

৬. পুরোনো ছবি বা ভিডিওকে নতুন ঘটনার নামে প্রচার করা হচ্ছে কি না?

৭. ভিডিওর সম্পাদিত অংশ দেখিয়ে মূল বক্তব্যের বিপরীত কোনো ধারণা তৈরি করা হচ্ছে কি না?

৮. সংবাদটি প্রকাশের পেছনে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ জড়িত রয়েছে কি না?

বিশেষ করে বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি, অডিও, ভিডিও এবং ডিপফেকের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তাই শুধু চোখে দেখা বা কানে শোনাকেই সত্যতার চূড়ান্ত প্রমাণ মনে করা যাবে না।

৫. যাচাইবিহীন সংবাদ প্রচারের সামাজিক ও নৈতিক বিপর্যয়

সংবাদ যাচাই না করার ক্ষতি শুধু ব্যক্তিগত গুনাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রভাব পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং সামগ্রিক মানবজীবনে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন—

ব্যক্তির সম্মানহানি ও চরিত্রহনন: মিথ্যা অভিযোগ, সম্পাদিত ছবি, বিকৃত বক্তব্য কিংবা ভিত্তিহীন সংবাদ একজন সম্মানিত ব্যক্তির দীর্ঘদিনের অর্জন ও সামাজিক মর্যাদা মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিতে পারে।

পারিবারিক ও সামাজিক অশান্তি: যাচাইহীন সংবাদ থেকে সন্দেহ, অবিশ্বাস, পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য সমস্যা এবং আত্মীয়তার সম্পর্কচ্ছেদ সৃষ্টি হতে পারে।

ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও আলেমদের সম্পর্কে বিদ্বেষ: কোনো আলেমের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার, ফতোয়ার অপব্যাখ্যা কিংবা মাযহাব ও মতপার্থক্য নিয়ে উসকানিমূলক সংবাদ মুসলিম সমাজে বিভক্তি ও পারস্পরিক বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে।

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সহিংসতা: কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার হলে তা সংঘাত, হামলা, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা: উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব, ভুয়া নির্বাচনী সংবাদ, বিকৃত বক্তব্য ও অপপ্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি: কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা পণ্যের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মানুষের আস্থা নষ্ট হতে পারে এবং প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের ওপর আস্থাহীনতা: অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা, বিচার হওয়ার আগেই সামাজিকভাবে দোষী ঘোষণা করা কিংবা তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা ন্যায়বিচারের পথে বাধা সৃষ্টি করে।

মানুষের বিবেক ও সত্যবোধের অবক্ষয়: যখন মানুষ যাচাইয়ের পরিবর্তে আবেগ, দলীয় পরিচয়, ব্যক্তিগত পছন্দ ও অপছন্দের ভিত্তিতে সংবাদ গ্রহণ করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন সমাজে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য ক্রমেই দুর্বল হয়ে যায়।

৬. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ দিক-নির্দেশনা

ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের জন্য সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। কারণ এসব মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারীর একটি শেয়ার বা মন্তব্যও মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

তাই প্রত্যেক মুসলিম ব্যবহারকারীর উচিত নিম্নোক্ত নীতিমালা অনুসরণ করা।

শেয়ার করার আগে যাচাই করুন

কোনো সংবাদ, ছবি, ভিডিও কিংবা পোস্ট দেখামাত্রই শেয়ার করবেন না। প্রথমে এর উৎস, সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করুন। যাচাই করা সম্ভব না হলে প্রচার থেকে বিরত থাকুন।

আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রচার করবেন না

কোনো সংবাদ আপনার ধর্মীয় অনুভূতি, রাজনৈতিক মতাদর্শ, দলীয় পরিচয় কিংবা ব্যক্তিগত আবেগের সঙ্গে মিলে গেলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেবেন না। সত্যের মাপকাঠি আবেগ বা পক্ষপাত নয়; বরং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।

শিরোনাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না

অনেক সময় সংবাদমাধ্যম পাঠক আকৃষ্ট করার জন্য চমকপ্রদ ও উত্তেজনাকর শিরোনাম ব্যবহার করে। তাই শুধু শিরোনাম পড়ে মন্তব্য বা শেয়ার না করে মূল সংবাদটি পড়ুন এবং বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বোঝার চেষ্টা করুন।

পুরোনো সংবাদ নতুন করে প্রচার করবেন না

অনেক সময় কয়েক বছর আগের কোনো ঘটনা, ছবি বা ভিডিও নতুন ঘটনার নামে প্রচার করা হয়। তাই সংবাদটির তারিখ, স্থান ও ঘটনার প্রেক্ষাপট যাচাই করুন।

সম্পাদিত ছবি ও ভিডিও সম্পর্কে সতর্ক থাকুন

বর্তমানে প্রযুক্তির সাহায্যে ছবি, অডিও ও ভিডিও সহজেই পরিবর্তন করা যায়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিও বা অডিও দেখেই তাকে অপরাধী কিংবা দোষী সাব্যস্ত করবেন না।

গুজব ও উসকানিমূলক পোস্ট এড়িয়ে চলুন

যেসব পোস্ট মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক, বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কিংবা সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে, সেগুলো প্রচার থেকে বিরত থাকুন। বিশেষত কোনো ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন।

অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করুন

কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ছবি, পারিবারিক সমস্যা, ব্যক্তিগত কথোপকথন কিংবা গোপন তথ্য অনুমতি ও বৈধ কারণ ছাড়া প্রকাশ করবেন না। সত্য হলেও সবকিছু প্রকাশযোগ্য নয়।

ভুল সংবাদ প্রচার করলে সংশোধন করুন

আপনার শেয়ার করা কোনো সংবাদ পরবর্তী সময়ে মিথ্যা বা ভুল প্রমাণিত হলে সেটি মুছে ফেলা, সংশোধনী প্রকাশ করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। ভুল প্রচারের দায় স্বীকার করা দায়িত্বশীলতার পরিচয়।

অন্যের পোস্ট শেয়ার করার আগে নিজেকেও দায়ী মনে করুন

অনেকেই মনে করেন, অন্যের পোস্ট শেয়ার করলে তার দায় শুধু মূল পোস্টদাতার। এটি সঠিক নয়। আপনি জেনেশুনে মিথ্যা বা ক্ষতিকর তথ্য ছড়িয়ে দিলে প্রচারের দায় আপনার ওপরও বর্তাতে পারে।

ভালো ও উপকারী তথ্য প্রচার করুন

শুধু নেতিবাচক সংবাদ নয়; বরং সত্য, কল্যাণকর, শিক্ষণীয়, মানবিক ও গঠনমূলক তথ্য প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করুন। মানুষের উপকার হয় এমন সংবাদ প্রচার করাও সওয়াবের কাজ।

৭. সংবাদ প্রচারের আগে নিজেকে পাঁচটি প্রশ্ন করুন

প্রত্যেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী কোনো সংবাদ শেয়ার করার আগে নিজেকে অন্তত পাঁচটি প্রশ্ন করতে পারেন—

নিজেকে যে প্রশ্ন করবেন

সংবাদটি কি সত্য ও নির্ভরযোগ্য?

সংবাদটির মূল উৎস কি পরিচিত ও বিশ্বস্ত?

সংবাদটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট কি আমি জানি?

এটি প্রচার করলে কারও সম্মান, অধিকার বা নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি?

আল্লাহর কাছে এ সংবাদ প্রচারের জন্য আমাকে জবাবদিহি করতে হলে আমি কি এর পক্ষে প্রমাণ দিতে পারবো?

এই প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়া গেলে সংবাদটি প্রচার না করাই নিরাপদ।

৮. সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শরয়ী ভারসাম্য

এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি। সংবাদ যাচাই করার অর্থ এই নয় যে, সব সংবাদকে অবিশ্বাস করতে হবে কিংবা কোনো অন্যায়, অপরাধ বা দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না।

বরং ইসলামের শিক্ষা হলো—সত্যকে গ্রহণ করতে হবে, মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং প্রমাণিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগতভাবে কথা বলতে হবে।

কোনো সংবাদ যথাযথভাবে যাচাই করে জনস্বার্থে প্রচার করা হলে তা প্রশংসনীয় হতে পারে। যেমন—

  • দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।

  • মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দেওয়া।

  • কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রমাণিত অনিয়ম যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা।

  • জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সত্য তথ্য প্রকাশ করা।

  • বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্যার্থে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার করা।

  • ধর্মের ব্যাপারে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত ন্যারেটিভ প্রচার করা।

তবে এসব ক্ষেত্রেও তথ্যের সত্যতা, উদ্দেশ্যের শুদ্ধতা, ভাষার সংযম, ব্যক্তির অধিকার এবং ক্ষতি-উপকারের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

অর্থাৎ ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ সংবাদমাধ্যম ও আদর্শ সংবাদ ব্যবহারকারী—উভয়েরই দায়িত্ব হলো সত্য প্রকাশ করা, মিথ্যা প্রতিরোধ করা এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা।

৯. সংবাদ প্রচারের দায়বদ্ধতা ও আখিরাতের জবাবদিহি

মনে রাখতে হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা প্রতিটি পোস্ট, মন্তব্য, শেয়ার ও প্রচার মানুষের আমলনামার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কোনো সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে যদি মানুষের সম্মানহানি হয়, মিথ্যা অপবাদ ছড়ায়, সমাজে বিভেদ সৃষ্টি হয় কিংবা মানুষের জানমালের ক্ষতি হয়, তাহলে এর দায় থেকে মুক্ত থাকার জন্য শুধু ‘আমি তো শেয়ার করেছি’ বলা যথেষ্ট হবে না।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا

অর্থ: “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার পেছনে পড়ো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর—এগুলোর প্রত্যেকটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সুরা আল-ইসরা: ৩৬)

 এ আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আমরা যা শুনি, যা দেখি এবং যা বিশ্বাস করি—সবকিছুর ব্যাপারেই আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

 সুতরাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সংবাদ প্রচারের আগে আমাদের মনে রাখা উচিত, একটি ক্লিক হয়তো কারও উপকারের কারণ হতে পারে, আবার কারও সম্মানহানি, পারিবারিক বিপর্যয় কিংবা সামাজিক অশান্তির কারণও হতে পারে।

১০. উপসংহার: শেয়ার করার আগে ভাবুন, প্রচারের আগে যাচাই করুন

বর্তমান যুগে তথ্যের অভাব নেই; বরং তথ্যের আধিক্যের মধ্যেই সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একজন মুসলিমের দায়িত্ব শুধু সংবাদ গ্রহণ করা নয়; বরং সত্য-মিথ্যা যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ গ্রহণ ও প্রচার করা।

মনে রাখতে হবে, সব সংবাদ বিশ্বাস করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, সব সত্য প্রচার করা কল্যাণকর নয় এবং সব প্রচারিত তথ্যের দায় শুধু মূল সংবাদদাতার নয়।

পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা—فَتَبَيَّنُوا  (যাচাই করো) এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর সতর্কবাণী—كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ  (সব শোনা কথা প্রচার করাই একজন ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট)—প্রত্যেক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর জন্য চিরন্তন নীতিমালা।

তাই আসুন, আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুজব, অপবাদ, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যম না বানিয়ে সত্য, ন্যায়, কল্যাণ ও মানবিকতার প্রচারের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলি।

শেয়ার করার আগে ভাবুন, বিশ্বাস করার আগে যাচাই করুন, প্রচারের আগে দায়িত্বশীল হোন। কারণ, আপনার একটি শেয়ারও কারও জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

وما توفيقي الا بالله

লেখক:মুফতি শরীফ মালিক
শিক্ষাসচিব ও সিনিয়র মুফতি: শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

শ

মুফতি শরীফ মালিক

লেখক

মুহাদ্দিস, গবেষক ও ফতোয়া আলোচক

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত আরও ফতোয়া ও প্রবন্ধ