মাসায়েল ২৪
সহযোগিতা

মক্কায় মসজিদের ভেতর অনৈতিক কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মুফতি শরীফ মালিক
•
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
৭৬৮ বার পঠিত
মক্কায় মসজিদের ভেতর অনৈতিক কাজের দায়ে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
শেয়ার করুন:

আজ (বুধবার), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মক্কা আল-মুকাররমা অঞ্চলে দুই অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড (তা'জীর বা বিচারিক বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ড) কার্যকরের বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে, যার পাঠ্য নিচে দেওয়া হলো:

মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমরা পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনের পর বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।" [সূরা আল-আ'রাফ: ৫৬] মহান আল্লাহ আরও বলেন: "এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চেও না; নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না।" [সূরা আল-কাসাস: ৭৭] মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ বিপর্যয় পছন্দ করেন না।" [সূরা আল-বাকারাহ: ২০৫] মহান আল্লাহ আরও বলেন: "যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি কেবল এটাই যে, তাদের হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে কিংবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত ও পা কেটে ফেলা হবে অথবা তাদের দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি তাদের জন্য দুনিয়ায় লাঞ্ছনা এবং আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।" [সূরা আল-মায়েদাহ: ৩৩]

বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম, পিতা: আবদুল বাসির এবং নারী সিতি আখতার পবিত্র মক্কা নগরীর (আল-আসামা আল-মুকাদ্দাসাহ) একটি মসজিদের ভেতরে অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয়েছিল। আল্লাহর রহমতে নিরাপত্তা বাহিনী উক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের পর এই অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে এবং স্থান ও সময়ের পবিত্রতা লঙ্ঘন করে তারা যে ভয়াবহ ও গুরুতর অপরাধ ঘটিয়েছে, তা বিবেচনা করে তাদের ‘তা'জীর’ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রদান করে। উচ্চ আদালত কর্তৃক অনুমোদনের পর রায়টি চূড়ান্ত হয় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শরীয়াহ মোতাবেক নির্ধারিত শাস্তি কার্যকরের জন্য একটি রাজকীয় আদেশ (রয়্যাল ডিক্রি) জারি করা হয়।

তদনুসারে, মক্কা আল-মুকাররমা অঞ্চলে গত বুধবার, ৩/৫/১৪৪৮ হিজরি মোতাবেক ১৪/১০/২০২৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম, পিতা: আবদুল বাসির এবং সিতি আখতারের মৃত্যুদণ্ড (তা'জীর) কার্যকর করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা প্রদানের মাধ্যমে সবার সামনে নিশ্চিত করছে যে, সৌদি আরব সরকার নিরাপত্তা রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং যারা মসজিদের পবিত্রতা ও মানুষের সম্ভ্রম ক্ষুণ্ন করবে, তাদের বিরুদ্ধে ইসলামের শরীয়াহর বিধান বাস্তবায়নে অত্যন্ত আন্তরিক। একই সাথে মন্ত্রণালয় সতর্ক করে দিচ্ছে যে, যারাই এই ধরণের অপরাধ করার দুঃসাহস দেখাবে, শরীয়াহ মোতাবেক কঠোর শাস্তিই হবে তাদের শেষ পরিণতি।

আর আল্লাহই সরল ও সঠিক পথের দিশারী।

সংবাদটি নিশ্চিত করেছে: صحيفة عكاظ السعودية - OKAZ Newspaper 

শ

মুফতি শরীফ মালিক

লেখক

মুহাদ্দিস, গবেষক ও ফতোয়া আলোচক

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত আরও ফতোয়া ও প্রবন্ধ