প্রশ্ন:
মুহতারাম, একজন মহিলার বিশ শতকের মত ফসলী জমি আছে। যার মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকার কম হবে না। এ ছাড়া তার গয়না-গাটি থেকে অন্য কোনো সম্পদ নেই। আর তার অন্ন-বস্ত্র থেকে নিয়ে যাবতীয় খরচ তার ছেলেরায় বহন করে থাকে। এখন তাকে তার ছেলে হজে নিতে চাচ্ছেন। ছেলেও নিজ খরচে মায়ের সঙ্গে হজ্জে যাচ্ছেন।
এখন আমার প্রশ্ন হলো- এমতাবস্থায় তার উপর কি হজ্জ ফরয? সে যে হজ্জ করবে তা কি ফরয হিসাবে আদায় হবে? সন্দেহের কারণ হলো তিনি মাহরামের খরচ বহনের সক্ষমতা রাখেন না। যা হজ্জ ফরয হওয়ার জন্য জরুরী। না-কি এমনিতে মাহরাম মিলে গেল তার খরচের সক্ষমতা না থাকলেও হজ্জ আদায় ফরয হয়ে যাবে? দলীলসহ জানালে উপকৃত হবো।
উত্তর:
শরয়ী দৃষ্টিতে মা-বাবা নিজেদের সম্পদের বিবেচনায় নিজেদের ব্যয়ভার বহনে সক্ষম হলে সন্তানের উপর نفقة (ভরণ-পোষণ) ওয়াজিব হয় না। অবশ্য তারা দিলে ভিন্ন কথা। ফলে এমতাবস্থায় হজ্জ ফরজ হতে হলে তার সম্পদ নিজ খরচের প্রয়োজনাতিরিক্ত কিনা সেটা বিবেচিত হবে। যদি না হয় তাহলে হজ্জ ফরয হয় না।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত মহিলার বিশ শতক জমি থাকায় ছেলেদের উপর তার نفقة (ভরণ-পোষণ) ওয়াজিব নয়। বিধায় উক্ত জমি حاجة اصلية (মৌলিক প্রয়োজন) এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ জমিনের মালিকানা বিবেচনায় তার উপর হজ্জ ফরয হবে না।
এটা ভিন্ন কথা যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মহিলার উপর হজ্জ ফরয হতে শুধু তার ব্যক্তিগত হজ্জ পালন পরিমাণ সম্পদ থাকাই যথেষ্ট। অবশ্য হজ্জ আদায় ওয়াজিব হওয়ার জন্য মাহরামের খরচের মালিক হওয়া শর্ত হলেও যদি নিজে থেকে হজ্জে যেতে প্রস্তুত মাহরাম মিলে যায় তবুও (মাহরামের খরচের মালিক না হলেও) হজ্জ আদায় ফরয হয়ে যায়। ফলে এ বিষয়ে সংশয়ের কোনো কারণ নেই।
উল্লেখ্য, কারো উপর নিজ মালিকানা সম্পদের বিবেচনায় হজ্জ ফরয না হলেও যদি কোনোভাবে তিনি হজ্জ আদায়ে সক্ষম হয়ে মতলক বা ফরয হজ্জের নিয়তে হজ্জ আদায় করে তাহলে এতে তার ফরয হজ্জ আদায় হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবার নিসাবের মালিক হলেও পুনরায় হজ্জ পালন ফরয হয় না। সে বিবেচনায় আলোচ্য মহিলা উক্ত সম্পদের মালিক না হলেও তার ছেলে তাকে হজ্জ করানোর দ্বারা তার ফরয হজ্জ আদায় হয়ে যাবে।





