প্রশ্ন: জনাব, এক ব্যক্তি ব্যবসায়িক বা অন্য কোন উদ্দেশ্যে বিদেশ গমন করলো। কিছুদিন অবস্থান করার পরে লোকটি মারা যায়। বিদেশ থেকে তার দেশে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা সবাই মৃত লোকটির গোসল, কাফন ও জানাযার নামায পড়ার অনুমতি প্রদান করে। তারপর কোম্পানীর খরচে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এখানে আমার জানার বিষয় দুটি:
এক. বিদেশে তার জানাযার নামায আদায় করার পর দেশে এসে কি পূনরায় তার দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া যাবে?
দুই. এক দেশে মৃত্যুবরণ করলে তাকে অন্যদেশে স্থানান্তর করা যাবে কি? এতে কি উলামাদের মতভেদ আছে? সঠিক মত কোনটি? এ দুটি বিষয়ে শরীয়তের আলোকে সঠিক সমাধান জানালে ভালো হয়। আল্লাহ আপনাকে জাযায়ে খায়ের দান করুন।
নিবেদক
মাসউদুর রহমান
১ নং প্রশ্নের উত্তর: জানাযার নামায পড়া ফরযে কিফায়া। যে কোনো আকেল বালেগ মুসলিম পুরুষ একাকী বা জামাতবদ্ধভাবে তা পড়লেই আদায় হয়ে যায়। এজন্য ইসলামী শরীয়তে দ্বিতীয় বা তৃতীয় জানাযা বলতে কিছু নেই। তবে জানাযার নামায পড়ানোর হকদার যেহেতু মৃতের ওলী, তাই তার অনুমতি ছাড়া বা তার অনুপস্থিতিতে জানাযার নামায পড়ানো হলে তার জন্য দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়ার অবকাশ আছে। প্রশ্নে বর্ণিত সুরতে যেহেতু ওলীর অনুমতি সাপেক্ষে জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাই এর পরে দ্বিতীয় বা তৃতীয় জানাযা আর পড়া যাবে না।
২ নং প্রশ্নের উত্তর: লাশ দাফন করার পর তা উর্ঠানো বা স্থানান্তরিত করা সকল ফুকাহার নিকট নাজায়েয। আর লাশ দাফনের পূর্বে এক, দুই মাইল দূরত্ব পর্যন্ত স্থানান্তরিত করা সবার ঐক্যমতে জাযেজ। এর বেশী অর্থাৎ এক শহর বা দেশ হতে অন্য শহর বা দেশে স্থানান্তরিত করার ব্যপারে ফকীহদের মাঝে কিছুটা মতানৈক্য পরিলক্ষিত হয়। একদল উলামার মতে এটা জায়েয হলেও অনুত্তম। আরেকদল উলামার মতে তা মাকরুহে তাহরীমী। কেননা রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, তোমরা মৃতের জানাযার কাজ তাড়াতাড়ী সম্পন্ন করো (তাড়াতাড়ি তাকে তার আবাসস্থানে পৌছে দাও।) আর এটা সর্বস্বীকৃত কথা যে, দু এক মাইলের বেশী দূরত্বে লাশ স্থানান্তরিত করা হলে দাফনকার্যে অনেক বিলম্ব ঘটে। তদুপরি এতে প্রচুর অর্থের অপচয়, নাবালক ইয়াতীম বাচ্চাদের মিরাস সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ হতে লাশ বহনের বিশাল একটি অংক ব্যয়, নিজ এলাকায় কবর দেয়াকে আবশ্যক মনে করা, একাধিকবার জানাযার নামায পড়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়াসহ আরো অনেক শরীয়ত বিরোধী কাজ সংঘটিত হয়, বিধায় এটা মাকরুহে তাহরীমী হবে। তাই বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া শুধু শুধু এক দেশ হতে অন্য দেশে বা শহরে লাশ স্থানান্তরিত করার প্রথা ও প্রবণতা অবৈধ ও বর্জনীয়। তবে যদি কোনো বিশেষ প্রয়োজনে স্থানান্তরিত করতেই হয়, তাহলে তাতে অসুবিধা হবে না। আর মৃত্যুবরণের স্থানে কবরের ব্যবস্থা না থাকা বা থাকলেও বিশাল অর্থ খরচ হওয়া লাশ স্থানান্তরের বৈধতার জন্য গ্রহণযোগ্য শরয়ী ওজর হিসাবে গণ্য হবে।






