মাসায়েল ২৪
সহযোগিতা

দাঁড়ি ও চুলে কালো খেজাব ব্যবহার প্রসঙ্গে

মুফতি শরীফ মালিক
•
২০ অক্টোবর, ২০২৬
৪ বার পঠিত
দাঁড়ি ও চুলে কালো খেজাব ব্যবহার প্রসঙ্গে
শেয়ার করুন:

প্রশ্ন: জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেবকে দেখা যায় দাড়ি এবং চুলে খেজাব (কালো কলপ) ব্যবহার করেন।

এখন আমার জানার বিষয় হলো- কালো খেজাব ব্যবহার করা শরয়ী দৃষ্টিতে বৈধ কিনা? এবং এমন ব্যক্তির পিছনে নামায পড়লে নামায সহীহ হবে কিনা?

নিবেদক

হাফেজ মুহিবুর রহমান, হবিগঞ্জ

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

উত্তর: ইসলামী শরীয়াহ মতে, যুদ্ধ ক্ষেত্রে শত্রুদের ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দাঁড়ি বা চুলে কালো খেজাব ব্যবহার সর্বসম্মতিক্রমে বৈধ হলেও মানুষের সামনে নিজেকে স্বল্প বয়সী বা অন্যকে ধোঁকা দেয়ার জন্য তা ব্যবহার করা মাকরূহে তাহরীমি।

তবে শুধু স্ত্রীর সন্তুষ্টি লাভের আশায় তার সামনে নিজের সৌন্দর্য প্রকাশার্থে তা ব্যবহার করা অধিকাংশ ওলামাদের মতে মাকরূহ হলেও ইমাম আবু ইউসুফ রহ. এর মত অনুযায়ী তখনও কালো খেজাব ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। তবে অনুত্তম।

সুতরাং প্রশ্নেবর্ণিত ইমাম সাহেব কোন উদ্দেশ্য কালো খেজাব ব্যবহার করেন, সে ব্যাপারে তাঁর বক্তব্যই মূল বিবেচ্য এবং সে মোতাবেক হুকুম আরোপ হবে।

তবে যদি নিষিদ্ধ কারণে তা ব্যবহার করেছে বলে প্রমাণিত হয়, তখন তিনি ফাসেকের অন্তর্ভূক্ত হবেন এবং যোগ্য ইমামের উপস্থিতিতে তাঁর পিছনে নামায পড়া মাকরূহে তাহরীমি হবে। অন্যথায় কোনো সমস্যা হবে না।

الأدلة الشرعية
صحيح مسلم: 1/199
عن جابر بن عبد الله قال اتى بابى قحافة يوم فتح مكة ورأسه ولحيته كالثغامة بياضا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم غيروا هذا بشئ واجتنبوا السواد
رد المحتار:9/604
يستحب للرجل خضاب شعره ولحيته ولو في غير حرب في الأصح ،... لا يديه ورجليه فإنه مكروه للتشبه بالنساء ... (قوله ويكره بالسواد ) أي لغير الحرب . قال في الذخيرة : أما الخضاب بالسواد للغزو ، ليكون أهيب في عين العدو فهو محمود بالاتفاق وإن ليزين نفسه للنساء فمكروه ، وعليه عامة المشايخ ، وبعضهم جوزه بلا كراهة روي عن أبي يوسف أنه قال : كما يعجبني أن تتزين لي يعجبها أن أتزين لها
كتاب المبسوط:10/205
واما من اختضب لاجل التزين للنساء والجوارى فقد منع ذلك بعض العلماء، والا صح انه لا بأس به وهو مروى عن ابى يوسف قال كما يجبنى الخ
كذا فى فتاوى حقانية: 2/412
والله أعلم بالصواب
শ

মুফতি শরীফ মালিক

লেখক

মুহাদ্দিস, গবেষক ও ফতোয়া আলোচক

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত আরও ফতোয়া ও প্রবন্ধ