প্রশ্ন:
মুহতারাম, আমাদের মসজিদে জায়গা দানকারী ব্যক্তি লন্ডন প্রবাসি। মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালে। জায়গা দানকারী ব্যক্তি ওয়াকফ করেন প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে। এতদিন মহিলাদের জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা না থাকলেও এখন উনি চাচ্ছেন ২য় তলায় পার্টিশন দিয়ে মহিলাদের ওয়াক্তিয়া ও জুমাসহ অন্যান্য নামাজের জন্য ব্যবস্থা করতে। আমাদের এলাকাবাসির আপত্তি সত্তেও তিনি এ কাজের আঞ্জাম দিচ্ছেন। আমাদের সম্মানিত খতিব সাহেব এটা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা হলে তিনি তার দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাবেন। এমতাবস্থায় হযরতের নিকট আরজি জানাচ্ছি, অতি দ্রুততম সময়ে ফাতওয়া জানিয়ে বাধিত করবেন।
উল্লেখ্য, আমরা যুবসমাজ চাই না খতিব সাহেবে হুজুরের সুহবত থেকে বঞ্চিত হতে।
নিবেদক
সাব্বির আহমদ
উত্তর:
ইবাদাতের মধ্যে অন্যতম একটি ইবাদাত হলো নামায। যা আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য অর্জনের মোক্ষম একটি মুহুর্ত। নামাযের গুরুত্বের দিক থেকেই আল্লাহ তা’য়ালা পুরো জমিনকে নামাযের জন্য অনুুকুল ও পাক হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে হারামাইন ও বাইতুল মুকাদ্দাস এর পর শরয়ী মসজিদ সর্বাপেক্ষা ফযীলতপূর্ণ। শরয়ী ওজর ব্যতিত জামাতে শরীক হওয়া প্রতিটি বালেগ পুরুষের জন্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের কাছাকাছি।
ইসলামের সোনালী যুগে কঠোর শর্তে নারীদের মসজিদে গিয়ে জামাতের সাথে নামায আদায়ের নজীর থাকলেও স্বয়ং রাসূল স. নারীদের জন্য ঘরের কোণকে নামায আদায়ের উত্তম স্থান হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।
আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রা. বহুবিধ ফিতনার দরুন রাসূল স. কর্তৃক নারীদের মসজিদে গমনকে নিষেধ করার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ রাসূল স. নারীকেন্দ্রিক ফিতনাগুলো দেখলে অবশ্যই তাদের মসজিদে গমনকে নিষেধ করতেন বলে মত ব্যক্ত করেছেন।
তেমনিভাবে উমর রা.ও ফিতনার দরুন নারীদের জামাতে শরীক হওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হওয়াকে অপছন্দ করতেন। রাসূল স. এর নির্দেশকে সাহাবায়ে কেরাম অপছন্দ করবেন, সেটা কল্পনাও করা যায় না। তাতে বোঝা যায়, স্বয়ং রাসূল স.ও নারীদের মসজিদে গমনকে আবশ্যক বা উৎসাহিত করতেন না।
হানাফি মাযহাবের গ্রহণযোগ্য ও ফাতওয়াযোগ্য মত হলো: মহিলাদের জন্য মসজিদে গমনের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া মাকরুহ।
সুতরাং নারীকেন্দ্রিক ফিতনার ছড়াছড়ি ও অসভ্যপূর্ণ এ সময়ে, যখন নারী নিজ ঘরেই নিরাপদ নয়; তখন নারীকে একাকী ঘরের বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেয়া বা সুযোগ করে দেয়া কতোখানি যুক্তিসঙ্গত তা বলাই বাহুল্য। এটা নিশ্চিত যে, বর্তমান যুগের তুলনায় আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা রা. এর যুগ বহুগুণে ভালো ছিলো। তথাপি তিনি নারীদের মসজিদে গমনের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন।
অতএব, কুরআন-সুন্নাহর বাণী, সাহাবায়ে কেরাম ও মুজতাহিদ ইমামগণের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নারীদের জন্য শুধু মসজিদে গমনের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হওয়া মাকরুহ। এক্ষেত্রে কোনো দেশ বা স্থান শরীয়তের দলীল নয়।
তবে নিছক মসজিদের উদ্দেশ্যে না হয়ে, ভিন্ন কোনো জরুরী কাজে ঘর থেকে বের হওয়ার পর নামাযের সময় হলে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী কোনো মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে আদায় হয়ে যাবে।
হ্যাঁ, নারীদের জন্য মাহরামের সাথে গিয়ে মসজিদে নামায আদায় করতে শরয়ী কোনো অসুবিধা নেই।
উল্লেখ্য, ওয়াকফ্কৃত স্থান ওয়াকফ্কারীর শর্তের বিপরীতে ব্যবহার করার শরয়ী বৈধতা নেই। পরবর্তী মুতাওয়াল্লী বা কমিটির জন্য ওয়াকফ্কারীর চাহিদার বিপরীত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার নেই।
মোটকথা:
(ক) প্রশ্নোক্ত মসজিদকে প্রতিষ্ঠাতার নিয়তের বিপরীতে ভিন্ন খাতে ভিন্নভাবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই।
(খ) মসজিদের উপরের কোনো অংশে নারীদের জন্য পর্দা ও নিরাপত্তার সহিত নামাযের ব্যবস্থা রাখার অনুমতি থাকলেও নারীদেরকে ওয়াক্তিয়া, জুমআ ও তারাবীহতে অংশগ্রহণের জন্য দাওয়াত করা কিংবা উৎসাহিত করা উচিত নয়।
(গ) নারীদের ক্ষেত্রে জামাতের সাথে নামায আদায়ের সাওয়াবের তুলনায় পর্দা ও নিরাপত্তার বিধান অগ্রগণ্য।
الأدلة الشرعية






