মাসায়েল ২৪
সহযোগিতা

মাদরাসার জন্য দানকৃত জমি চাষাবাদ করে খাওয়া ও বিক্রি করার বিধান

মুফতি শরীফ মালিক
•
২০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ বার পঠিত
মাদরাসার জন্য দানকৃত জমি চাষাবাদ করে খাওয়া ও বিক্রি করার বিধান
শেয়ার করুন:

প্রশ্ন: মুহতারাম, হাবিবুর রহমান মাদরাসার জন্য কিছু জমি মৌখিক দান করেন এবং তার দুটি সংসার রয়েছে। এবং প্রথম সংসারে একটি ছেলে এবং দ্বিতীয় সংসারে দুটি ছেলে ও একটি মেয়ে ও স্ত্রী রয়েছে। দানকৃত জমি উভয় সংসারের ছেলেরা বন্টন করে চাষ করে মাদরাসার জন্য অর্ধেক দিয়ে দিতেন। এক সংসারে অভাব থাকার কারণে উভয় সংসার একমত পোষণ করে জমিটা দ্বিতীয় সংসারের স্ত্রী বিক্রয় করে দেন। কিছু দিন যাবত মাদরাসায় কোন টাকা ও ধান দেওয়া হয়নি। অতপর কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর দ্বিতীয় সংসারের স্ত্রীর ছোট ছেলে জমির টাকা মাদরাসায় আদায় করে দেন এবং মাদরাসা ওয়ালাদেরকে বলা হয় নাই যে, এই টাকা জমি বিক্রয়ের টাকা। অতপর প্রথম সংসারের ছেলেও ওয়ারিশগণ বলে যে, তুমি এই টাকা কিসের দিয়েছ আমাদের জানা নেই, কারণ ঐ সময় দ্বিতীয় সংসারের ছোট ছেলে প্রবাসে বসবাস করতেন এবং চিঠি দিয়ে যোগাযোগ করতেন এবং চিঠি দিয়ে যোগাযোগ করার কারণে উল্লিখিত বিষয়টি তৎক্ষণাত জানতে পারে নাই। এখন প্রথম সংসারের ছেলের ওয়ারিশগণ বলেন আমরা দাদার দানকৃত জমির পরিবর্তে অন্য জমিতে মসজিদ করব। কারণ দানকৃত জমি ক্রেতা থেকে ফেরত নেওয়া অসম্ভব।

এখন প্রশ্ন হলো-

১। ঐ দানকৃত জমি মাদরাসায় দান করার পর ব্যবহার করা ও বিক্রয় করা সঠিক হয়েছে কিনা?

২। মাদরাসায় দান করা জমির টাকা কয়েক বছর পর আদায় করা শুদ্ধ হয়েছে কিনা?

৩। প্রথম সংসারের ওয়ারিশগণ বলে আমরা আমাদের অংশের পরিবর্তে অন্য জমিতে মসজিদ করব।

এখন আমাদেরকে সঠিক সিদ্ধান্ত জানালে চির কৃতজ্ঞ থাকব।

নিবেদক

আহসান উল্লাহ, ফেনী

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

উত্তর: শরয়ী দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে কোন কিছু হেবা করতঃ উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার দখল বুঝে নেয়ার দ্বারা তাতে দানের বিধান কার্যকর হয়ে যায়। পরবর্তীতে দানকারী মারা গেলে তাতে ওয়ারিশদের মালিকানামূলক হস্তক্ষেপ বৈধ হয় না।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে জনাব হাবিবুর রহমান সাহেব মাদরাসার জন্য মৌলিকভাবে জমিনটি দান করতঃ মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে তা বুঝিয়ে দিয়ে থাকলে তাতে দানের বিধান কার্যকর হয়ে গেছে। তাই তার মৃত্যু পরবর্তী ওয়ারিশরা তা ভোগ করা এবং উভয় সংসারের পরামর্শক্রমে দ্বিতীয় স্ত্রী তা বিক্রয় করে দেয়া বৈধ হয়নি। ফলে এখন হুবহু সেই জমিন মাদরাসায় ফেরত দেয়া আবশ্যক। অবশ্য আইনি জটিলতার কারণে হুবহু সেই জমি ফেরত দেয়া সম্ভব না হলে তার সমপরিমাণ জমিন বা ন্যায্য বাজার মূল্য পুনরায় ফেরতযোগ্য। আলোচনা ছাড়া পূর্বের আদায়কৃত মূল্য নফল দান হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে উক্ত জমি বা তার পরিবর্তে দেয়া সমপরিমাণ জমিতে মসজিদ নির্মাণের সুযোগ নেই। তবে যদি হাবিবুর রহমান সাহেব মৃত্যুর পূর্বে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে জমিন বুঝিয়ে না দেয় তাহলে দানের বিধান কার্যকর হয়নি; বিধায় তার মৃত্যুর পর জমিনটি ওয়াশিদের মালিকানায় ফিরে এসেছে। এমতাবস্থায় তাতে তাদের চাষাবাদ এবং পরবর্তীতে সকল ওয়ারিশদের পরামর্শক্রমে দ্বিতীয় স্ত্রী বিক্রয় করে দেয়া বৈধ হয়েছে।

এমতাবস্থায় প্রথম সংসারের ওয়ারিশগণ ভিন্ন জমিতে মসজিদ করতে চাইলে তা একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এতে উক্ত জমির সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ফলে যারা মসজিদ করতে সম্মত হয় কেবল তাদের মালিকানাধীন জমিতে মসজিদ করতে পারে।

الأدلة الشرعية
سورة النساء: الأية 29
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ
الهداية: 6/264 (البشرى
قال: "والصدقة كالهبة لا تصح إلا بالقبض"؛ لأنه تبرع كالهبة "فلا تجوز في مشاع يحتمل القسمة" لما بينا في الهبة "ولا رجوع في الصدقة"؛ لأن المقصود هو الثواب
كنز الدقائق: 3/140 (البشرى
والصدقة كالهبة لا تصح إلا بالقبض ولا في مشاع يحتمل القسمة, ولا رجوع فيها
والله أعلم بالصواب
শ

মুফতি শরীফ মালিক

লেখক

মুহাদ্দিস, গবেষক ও ফতোয়া আলোচক

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত আরও ফতোয়া ও প্রবন্ধ