মাসায়েল ২৪
সহযোগিতা

হিজড়াদের বিয়ে, পায়ু পথে সঙ্গম, লিঙ্গ পরিবর্তন ও চাঁদাবাজি

মুফতি শরীফ মালিক
•
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ বার পঠিত
হিজড়াদের বিয়ে, পায়ু পথে সঙ্গম, লিঙ্গ পরিবর্তন ও চাঁদাবাজি
শেয়ার করুন:

প্রশ্ন:

১। আমরা জানি হিজড়াদের লিঙ্গ বা যৌন পথ নেই, তবুও উনাদের মধ্যে যৌন চাহিদা আছে। এখন তারা কিভাবে তা পূরণ করবে? আর হিজড়ারা বলে আমাদের যৌন পথ নেই, আমরা কি পায়ু পথে যৌন পল্লীতে মিলন করতে পারি? এই বিষয়ে সমাধান কি হবে?

২। বর্তমানে যারা পুরুষ বা মহিলা অপারেশন দ্বারা হিজড়া হয় তাদের বিধান কি হবে?

৩। হিজড়ারা যান বাহনে বা রাস্তা ঘাটে চাঁদা নেয় তার হুকুম কি?

নিবেদক

মো: বিন ইয়ামিন

উত্তর:
শরয়ী দৃষ্টিতে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যৌন চাহিদা সম্পন্ন করে সৃষ্টি করে তার যৌন চাহিদা পূরণের পথও বলে দিয়েছেন এবং পায়ূ পথে যৌন চাহিদা পূরণ করতে নিষেধ করেছেন। আর কোন মানুষের লিঙ্গ পরিবর্তন করা ইসলামে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে। আর কোন মানুষের সন্তুষ্টি ছাড়া তার মাল গ্রহণ করা জায়েয নেই।

প্রশ্নোক্ত সূরতের প্রথম পয়েন্টের উত্তর হলো:- যে সকল হিজড়াদের কোনভাবে লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব তারা বিপরিত লিঙ্গের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে। আর কোনভাবে লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব না হলে তাদের বিবাহ বৈধ নয়; বরং তারা যৌন চাহিদা নিভৃত করার জন্য রোজা রাখবে এবং পরকালে আল্লাহর নিকট এর প্রতিদান পাবে। কিন্তু কোন অবস্থাতেই পায়ু পথে যৌন চাহিদা পূরণ করা বৈধ নয়।

দ্বিতীয় পয়েন্টের উত্তর হলো: শরয়ী দৃষ্টিতে সার্জারির মাধ্যমে কোন পুরুষ বা মহিলার লিঙ্গ পরিবর্তন করা জায়েয নেই। আর বর্তমানে যারা অপারেশনের মাধ্যমে হিজড়া হয় তারা অত্যন্ত গর্হিত কাজে এবং কবিরা গোনাহে লিপ্ত, তথাপি তারা পুরুষ থেকে পরিবর্তন করলে পুরুষ এবং মহিলা থেকে পরিবর্তন করলে মহিলা হিসাবেই হুকুম বর্তাবে। কারণ, সৃষ্টিগতভাবে লিঙ্গ নির্ধারণ হয় তিনটি জিনিসের সমন্বয়েঃ (১) হরমোন (২) ক্রোমোজম (৩) বাহ্যিক অঙ্গ। সার্জারির মাধ্যমে বাহ্যিক অঙ্গ পরিবর্তন করলেই লিঙ্গ পরিবর্তন হয় না। এমনকি হরমোন ট্রান্সপ্ল্যান্ট দ্বারাও লিঙ্গ পরিবর্তন হয় না, আর মেডিকেল সাইন্স ক্রোমোজম পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে না। তাই পুরোপুরি ভাবে লিঙ্গ পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তৃতীয় পয়েন্টের উত্তর:- হিজড়াদের জন্য যানবাহন বা রাস্তা-ঘাটে মানুষদের থেকে জোরপূর্বক অসন্তুষ্টি বা বাজে অবস্থা সৃষ্টি করে টাকা নেয়া কোনভাবেই বৈধ নয়। এমনকি এদেরকে অর্থ সহায়তা দেয়াও ক্ষেত্রে বিশেষ গোনাহের কারণ হবে। অতএব তাদের উচিত হালালভাবে উপার্জন করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করা

শরয়ী প্রমাণাদি

سورة النساء: 119

وَلَأُضِلَّنَّهُمْ وَلَأُمَنِّيَنَّهُمْ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُبَتِّكُنَّ آذَانَ الْأَنْعَامِ وَلَآمُرَنَّهُمْ فَلَيُغَيِّرُنَّ خَلْقَ اللَّهِ وَمَنْ يَتَّخِذِ الشَّيْطَانَ وَلِيًّا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَقَدْ خَسِرَ خُسْرَانًا مُبِينًا

سنن الترمذي: رقم الحديث: ১২২৮

عن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من وجدتموه ‌يعمل ‌عمل ‌قوم لوط فاقتلوا الفاعل والمفعول به

صحيح البخاري: رقم الحديث: ৫৮৮৫

عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم ‌المتشبهين من الرجال بالنساء، والمتشبهات من النساء بالرجال

مشكاة المصابيح: رقم الحديث: ২৯৪৬

وعن أبي حرة الرقاشي عن عمه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ألا تظلموا ألا لا يحل ‌مال ‌امرئ إلا بطيب نفس منه

আরো আছে: (আল-মওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ: খ-20 পৃ: 22, আল-মাবসুত: খ-9 পৃ: 353 দারুল হাদিস, ফাতওয়ায়ে আলমগীরী: খ-5 পৃ: 412 দারুল ফিকর্)

والله أعلم بالصواب.
শ

মুফতি শরীফ মালিক

লেখক

মুহাদ্দিস, গবেষক ও ফতোয়া আলোচক

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত আরও ফতোয়া ও প্রবন্ধ