সরকার কর্তৃক কিছু নিষিদ্ধ সময় থাকে, যখন জেলেদের জন্য নদী/সমুদ্রে মাছ ধরা নিষেধ। তারপরেও কিছু সংখ্যক জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরে। সরকারী বাহীনির কাছে ধরা পরলে,বাহীনির লোকেরা মাছগুলো জব্দ করে নেয় এবং সাথে সাথে জেল-জরিমানা ইত্যাদি শাস্তি দেওয়া হয়। পরবর্তিতে জব্দকৃত মাছগুলো ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে কওমী মাদ্রাসায় অর্থাৎ মাদ্রাসার সদকা ফান্ডে দিয়ে দেয়। এখন জানার বিষয় হল,
ক. সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেদের এধরনের কর্মকান্ডের জন্য শাস্তি হিসেবে তাদের মাছগুলো জব্দ করা ও জেল-জরিমানা ইত্যাদি বিষয়ক রাষ্ট্রীয় আইন কি? এবং ইসলাম এধরনের শাস্তির ক্ষেত্রে কি বলে?
খ. জব্দ করার পর মাছগুলো রাষ্ট্রের কোন খাতে ব্যয় হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইন কি? এবং উক্ত মাছগুলোর ব্যয়ের খাত সর্ম্পকে ইসলাম কি বলে?
গ. মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ উক্ত মাছগুলো সদকা ফান্ড অথবা গরিব ছাত্রদের জন্য গ্রহণ করতে পারবে কি না? দলিলসহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
(মেহেরবানী করে পাঁচ দিন অর্থাৎ আগামী ২/১০/২০১৮ এর মধ্যে সমাধান জানালে অনেক উপকার হবে। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন)
উত্তর:
শরয়ী দৃষ্টিতে সরকার কর্তৃক জাতীয় স্বার্থে কোনো আইন প্রণয়ন করলে তা কুরআন-সুন্নাহর বিরোধী না হলে জনগণের জন্য মান্য করা আবশ্যকীয় হওয়া শরীয়তেরই বিধান। আর উক্ত আইন উপেক্ষা করলে রাষ্ট্র ও শরীয়ত কর্তৃক অপরাধ সাব্যস্ত হবে এবং এ অপরাধের বিরুদ্ধে আদালত রাষ্ট্রীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
ক. অতএব প্রশ্নোক্ত সুরতে সরকার কর্তৃক প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে আরোপিত যা শরীয়ত সমর্থিত। তাই উক্ত মৌসুমে রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করে মাছ ধরা বৈধ হবে না; বরং গুনাহ হবে। তথাপি আইন অমান্য করে কোনো জেলে মাছ ধরলে জেল জরিমানা ও মাছ জব্দসহ যেকোনো দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবে এবং তা শরীয়ত বিরোধীও হবে না।
খ. অতপর জব্দকৃত মাছ রাষ্ট্রীয় সম্পদ হওয়ায় আদালত রাষ্ট্রীয় উন্নয়নমূলক বা জনগণের কল্যাণে যেকোনো খাতে ব্যয় করতে পারবে।
গ. এ ক্ষেত্রে উক্ত মাছ মাদরাসার সদকা ফান্ডে দেয়া এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ হবে। যদি এই আদান-প্রদানের বিষয়টি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন স্বাপেক্ষে হয়।
إذا تعارض المانع والمقتضي يقدم المانع





