প্রশ্ন:
মুহতারাম, নৌকা দৌড়ের আয়োজন একটি জঘন্যতম অপরাধ।
১. অনেকেই হাফ প্যান্ট পড়ে নৌকা দৌড়ে যায়।
২. হাজার হাজার মুসলিম জনতা নৌকা দৌড়ে অংশ গ্রহণ করে নামায কাযা করে।
৩. দৌড়ের নৌকায় করতাল ঢোল বাজানো হয়।
৪. কখনো দৌড়ের নৌকার আগে গলাইয়া ঘাটুয়া (ড্যাংসিং বয়) নাচানো হয়। যার সাথে যুবকরা সময়বেধে পালাক্রমে সমকামিতায় লিপ্ত হয়। ড্যাংসিং বয় না থাকলে অন্য কোন লোক নৌকার আগে গলাইয়ে নাচে। এলাকায় এমন আয়োজন হলে গোটা এলাকায় একটা ফেতনার জোয়ারের পরিস্থিতি ধারণ করে। এলাকার ধর্ম প্রাণ মুরব্বিয়ান নৌকা দৌড়ের ফেতনা দমনের জন্য বারবার মিটিং করেন। কিন্তু কোন সুফল হয়নি। কুরবানী ঈদের সময় এসে হাজির হই। ঈদগাহের খতীব সাহেবকে মুরব্বিয়ানে কেরাম মিটিং এ মতামত করে জানান যে, ঈদগাহের ময়দানে খতীব সাহেব ভালো করে বয়ান করবেন। খতীব তারগীব ও তারহীবের মাধ্যমে বয়ান করেন । বয়ানে তিনি একটি কথা বলেন নৌকা দৌড়ের ফেতনার অগ্রনায়ক যারা গ্রামে এলাকায় ফেতনর আয়োজন করেছে তারা তাওবা না করলে ফেতনার অগ্রনায়কদের সাথে মিলে কুরবানী দিবেন না। দূর্নিতীর অগ্রনায়কদের সাথে মিলে কুরবানী দিলে কুরবানী হবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন
খতীব সাহেবের এ কথার প্রতিবাদ করেন এক আলেম। তখন খতীব সাহেব বলেন আমি বলেছি কুরবানী কবুল হবে না। কবুলের অর্থ কবুলে اثابت অর্থাৎ সাওয়াব হাছিল হবে না। জানার বিষয় হলো, খতীব সাহেবের উক্ত ওয়াজ ঠিক হয়েছে কিনা? এবং প্রতিবাদ কারীর প্রতিবাদ কতটুকু সঠিক। জনাব মুফতি সাহেব বিস্তারিত জানালে খুশি হব?
প্রকাশ থাকে যে, খতীব সাহেব বাতিলের বিরুদ্ধে খুবই সোচ্চার। এলাকার যেকোন ফেতনার মোকাবেলায় তিনি অগ্রসৈনিক হিসেবে কাজ করেন। তার ঈদের দিনের বয়ান ও পরবর্তী প্রচেষ্ঠায় এলাকার অন্যান্য গ্রাম থেকেও দৌড়ের নৌকার ফিতনা দমন হয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদকারী আলেমের প্রশ্রয়মূলক কথাবার্তায় প্রায় আড়াই বছর হয়ে গেছে এখনও দৌড়ের নৌকা দমন হয়নি।
উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত পন্থায় নৌকা দৌড়ের আয়োজন করা হারাম কাজ বিধায় তা বর্জনীয়। এবং তার আয়োজক ও তাতে অংশগ্রহনকারীরা ফাসেকের অন্তর্ভূক্ত।
আর ফাসেকের ফিসক ব্যতিত কুরবানী সহীহ হওয়ার অন্য কোন প্রতিবন্ধক না থাকলে কুরবানী সহীহ হয়ে যায়। বিধায় তাদের সাথে কুরবানী করলে কুরবানী সহীহ হয়ে গেলেও তারা ফাসেক হওয়ায় তাদের সাথে কুরবানী করা উচিত নয়। বিশেষ করে যখন তাদের সাথে কুরবানী করা থেকে বিরত থাকাটা তাদেরকে উক্ত হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা থাকে। তাই খতীব সাহেবের উক্ত কথা (তাদের সাথে কুরবানী দিলে কুরবানী হবে না) ধমকির উপর বা এ জাতীয় লোক যেহেতু এখলাস হীন বা হারাম সম্পদ দ্বারা কুরবানীতে শরীক হয়ে থাকে। তাই তাদের থেকে সাবধান থাকার মর্মের উদ্দেশ্যে বলা হলে তা সহীহ হবে, অন্যথায় নয়।
আর প্রতিবাদকারী আলেমের মোটেই উচিত হয়নি এভাবে প্রতিবাদ করা। যখন সেখানে ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে।
আর এই প্রতিবাদের কারণে যদি উক্ত ফাসেকেরা প্রশ্রয় পেয়ে উক্ত গুনাহের কাজে লিপ্ত থাকে, তাহলে গুনাহের একটি অংশ ঐ আলেমের আমলনামায়ও লিখা হবে। তাই উক্ত কাজ থেকে বিরত থাকা চাই। পক্ষান্তরে খতীব সাহেবেরও বিষয়টিকে খোলাসা করে বলা উচিত।
উল্লেখ্য, নৌকা বাইচ একটি বাঙালী ঐতিহ্য। সর্বপ্রকার শরীয়ত গর্হিত কার্যক্রম বাদ দিয়ে কোনো মুসলমান নিছক বাঙালী সংস্কৃতি হিসাবে নৌকা বাইচে অংশ নিলে শরয়ী কোনো অসুবিধা নেই।





