মাসায়েল ২৪
সহযোগিতা

মোবাইল নিষিদ্ধ আইন ও মোবাইল জব্দ

মুফতি শরীফ মালিক
•
১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৩০ বার পঠিত
মোবাইল নিষিদ্ধ আইন ও মোবাইল জব্দ
শেয়ার করুন:

প্রশ্ন: আমরা একটি “দ্বীনি বিদ্যালয়” করেছি। এখানে যখন কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়, তখন ২৬ টি শর্তযুক্ত একটি অঙ্গিকারপত্রে (বিষয়টি বুঝার সুবিধার্থে পরিশিষ্টে অঙ্গিকার পত্রটি সংযুক্ত করেছি) শিক্ষার্থীকে স্বাক্ষর করিয়ে আমরা (এই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষগণ) ভর্তি নিই । অঙ্গিকারপত্রটির একটি শর্ত নিয়ে কিছুটা ঝামেলার সম্মুক্ষিণ হতে হচ্ছে । তাই হযরতের নিকট শর্তটি হুবহু তুলে ধরছি

“১৯. আমি বিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন সময়ে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করবো না । এর ব্যতিক্রম করলে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত আইন মানতে বাধ্য থাকবো ।”

এর পাশাপাশি ভর্তির অংশ হিসেবে একশত টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ের আইন কানূন সম্বলিত ৩৬ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট বই দিয়ে থাকি। এই “রিপোর্ট বইয়ের” ১৮ নং পৃষ্ঠায় “বিশেষ কানূন” শিরোনামে দুটি কানূন থাকে। এর দ্বিতীয় কানূনটি হল, ( হযরতের সুবিধার্থে কানূনটি হুবহু নকল করছি )

“ ২. মোবাইল ফোন, এমপি থ্রি, ফোর, কোন ধরনের মোবাইল সিম, মেমোরি কার্ড এবং এফ . এম রেডিও ইত্যাদি চাই নিজের বা অন্যের হোক কখনো নিজের কাছে রাখতে পারবে না । এসব জিনিস কোন শিক্ষার্থীর নিকট পাওয়া গেলে , তা সাথে বিদ্যালয়ের গোরাবা ফান্ড মালিক হয়ে যাবে এবং দ্বিতীয়বার কারো কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে সে শিক্ষার্থী বহিষ্কারের উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে । ”

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় হলো , এই বিশেষ কানূনটি রিপোর্ট বইয়ের ১৮ তম পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা ব্যতিত ভর্তিলগ্নে অন্য কোন উপায়ে (শিক্ষার্থীকে) জানানো হয় না। এরপর শিক্ষাবর্ষের শুরুতে যখন প্রতিষ্ঠান খোলা হয়, তার কয়েকদিনের মধ্যে একটি ইজতিমায়ী মজলিসের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সকল নিয়ম - কানূন মৌখিকভাবে পড়ে, আমরা সকল শিক্ষার্থীদেরকে অবগত করিয়ে দিই। এতে স্বাভাবিকভাবে কোন শিক্ষার্থী আপত্তি জানায় না । আবার এও বলা যেতে পারে যে , আপত্তি/খেয়াল প্রকাশ করার রেওয়াজ চালু না থাকায় শিক্ষার্থীরা এটাই বুঝে না যে, এখানে কোন মত/খেয়াল/ অভিযোগ পেশ করা যেতে পারে । এরই ধারাবাহিকতায় ক্লাস চালু হবার প্রায় দুই মাস পর আমরা একটি শ্রেণীকক্ষে তল্লাশী চালাই । এতে বাটন - টার্চ ইত্যাদিসহ অনেক ডিভাইস পেয়ে যাই। নিয়ামানুসারে ডিভাইসগুলো বহিরাগত লোকদের কাছে বিক্রি করে এর টাকাগুলো গোরাবা ফান্ডে দান করা হয় । এরই সাথে বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয় যে , এই ডিভাইসগুলো যাতে কোনভাবেই এর মালিক তথা শিক্ষার্থীর হাতে না পৌছে। সাথে সাথে আমরা এই আইনও পাশ করেছি যে , শিক্ষার্থী বা তার আত্মীয়- স্বজন যতই জরিমানা বা উজর-আপত্তি পেশ করুক তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না । একমাত্র বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের শর্তেই তার মোবাইল-ডিভাইস ফেরতযোগ্য হবে । স্বাভাবিকভাবে বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করে শিক্ষাবর্ষ শেষ হলেও তা কোনভাবেই ফিরিয়ে দেওয়া হবে না । বিষয়টি ঘটবার কিছুদিন পর আমাদের এলাকার একজন আলেম বলছেন , “এভাবে মোবাইল নিয়ে গোরাবা ফান্ডকে মালিক বানিয়ে দেয়া শরিয়ত কর্তৃক অনুমোদিত নয় । ” তবে , আমাদের প্রতিষ্ঠানের এক ব্যক্তি বলছেন ভিন্ন কথা , তিনি বলছেন , “সব বিষয় নিয়ে শরিয়তের সরনাপন্ন হওয়া ঠিক নয় , এটি গুরু - শিষ্যের ব্যাপার । শুরু কখনও তার শিষ্যের মন্দ হউক তা চায় না । শিক্ষার্থীর কল্যাণের সুবিধার্থেই এই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়ে থাকে । এটি নাজায়েয কিছু নয় । ”

অতএব , হযরতের নিকট জানবার বিষয় হলো ,
এক . আমাদের প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ডিভাইস সংক্রান্ত এই কানূনটি শরিয়ত সম্মত কি না ? আর এটি শরীয়তপরিপন্থি হলে শরীয়তসম্মত সূরত কি হবে ?
দুই . উক্ত দুই ব্যক্তির কথার হুকুম কি ?
তিন . আমাদের প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যত গৃহীতব্য সকল আইন-কানূন বিনা দ্বিধায় মানতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য কি না ? চাই আইন-কানূনগুলো শরীয়ত সম্মত হোক বা না হোক!!
আশা করছি দলিলসহ লিখিত আকারে হযরত এর উপর ফাতওয়া প্রদান করবেন ।

নিবেদক

মুহাম্মাদ আব্দুল মালিক

আন-নাহদা দ্বীনি বিদ্যালয়

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

উত্তর: হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী মৌলিকভাবে কোন অপরাধের শাস্তি স্বরূপ অর্থ দণ্ডেদণ্ডিত করা বৈধ নয়। অবশ্য সুনির্দিষ্ট কোন অপরাধ ও অনিয়ম নিবারণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যক্তির উপর সদকা অপরিহার্যকরণের অবকাশ আছে।

অতএব, প্রশ্নে বর্ণিত আপনাদের প্রতিষ্ঠানের ‘ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস (গোরাবা ফান্ডে সদকা করা) সংক্রান্ত উক্ত আইন ভর্তি ফরমে উল্লেখ ও শিক্ষাবর্ষ শুরু লঘ্নে ঘোষনা করা সাপেক্ষে শরীয়ত অনুমোদিত বলে বিবেচিত হবে।

২। এ ক্ষেত্রে প্রথমোক্ত আলেমের ‘এভাবে মোবাইল নিয়ে গোরাবা ফান্ডকে মালিক বানিয়ে দেওয়া শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত নয়’ মর্মে প্রদত্ত বক্তব্য মৌলিক বিচারে সঠিক হলেও প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না। কারণ, এটা অবৈধ অর্থ দণ্ডের সংজ্ঞায় পড়ে না। আর অপর ব্যক্তির ‘সব বিষয়ে শরীয়তের শরনাপন্ন হওয়া ঠিক নয়’ মর্মে প্রদত্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ও তার অজ্ঞতার পরিচায়ক; বরং মুসলমানের প্রত্যেক কাজ মৌলিকভাবে শরীয়ত সম্মত হওয়া অপরিহার্য।

৩। আপনাদের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রণিত শরীয়ত সম্মত সকল বৈধ আইন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য মানা অপরিহার্য।

তবে এক্ষেত্রে কোন আইন সম্পূর্ণ শরীয়ত পরিপন্থী হলে শিক্ষার্থীরা উক্ত আইন মানতে বাধ্য নয়। উপরন্তু প্রতিষ্ঠানের জন্য এমন আইন প্রয়োগ ও প্রনয়ন করা বৈধ হবে না।

الأدلة الشرعية
سنن أبي داود: رقم الحديث: 2625
عن علي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه و سلم بعث جيشا وأمر عليهم رجلا وأمرهم أن يسمعوا له ويطيعوا فأجج نارا وأمرهم أن يقتحموا فيها فأبى قوم أن يدخلوها وقالوا إنما فررنا من النار وأراد قوم أن يدخلوها فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه و سلم فقال " لو دخلوها أو دخلوا فيها لم يزالوا فيها " وقال " لاطاعة في معصية الله إنما الطاعة في المعروف
فتح القدير: 5/330 (رشيدية
وعن أبي يوسف : يجوز التعزير للسلطان بأخذ المال ، وعندهما وباقي الأئمة الثلاثة لا يجوز .وما في الخلاصة سمعت من ثقة أن التعزير بأخذ المال إن رأى القاضي ذلك ، أو الوالي جاز ، ومن جملة ذلك رجل لا يحضر الجماعة يجوز تعزيره بأخذ المال مبني على اختيار من قال بذلك من المشايخ كقول أبي يوسف
المعايير الشرعية:1/104 (الملك فهد
التزام المدين المماطل بالتصدق : إن جواز الاشتراط على المدين المماطل بالتـزام التصدق بمبلغ زائد عن الدين لتصرفه المؤسسـة في وجوه البر هو من قبيل الالتزام بالتبرع المعروف عند المالكيـة وهو قول أبي عبـد الله بن نافع ومحمـد بن إبراهيم بن دينـار من فقهاء المالكية
والله أعلم بالصواب
শ

মুফতি শরীফ মালিক

লেখক

মুহাদ্দিস, গবেষক ও ফতোয়া আলোচক

শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত আরও ফতোয়া ও প্রবন্ধ