প্রশ্ন: জনক ব্যক্তির সকল আকিদা আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাতের সাথে সামঞ্জস্যপূণর্, শুধু তিনি রাসূল সাঃ কে নূরের তৈরী বলে বিশ্বাস করেন এবং এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ১৫ নং আয়াত এবং রাসূল সা,এর চেহারার নূর দ্বারা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুর রাত্রিবেলায় সুই খুঁজে পাওয়া ইত্যাদি হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন ৷জানার বিষয় হল যদি রাসূল সাঃ মাটির তৈরী হয়ে থাকেন তাহলে উপরে উল্লেখিত আয়াত ও হাদিসের জবাব কি?এবং উল্লেখিত ব্যক্তির এ আকীদা পোষণ করার দরুণ তাকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা?যদি না ধরা হয় তাহলে তাকে কোন ফেরকায় গণ্য করা হবে।
উত্তর:কোরআন হাদিসের অসংখ্য প্রমাণাদির মাধ্যমে সমস্ত আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এই আকিদায় বিশ্বাসী যে,আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকৃত অর্থে একজন মাটির তৈরী মানুষ, তবে অন্যান্য সকল মানুষ ও ফেরেশতাদের থেকে শ্রেষ্ট,তিনার অভ্যন্তর ছিল নুর ও হেদায়েতের দ্বরা ভরপুর,যার মাধ্যমে তিনি কুফর ও শিরকের অন্ধকারকে দূরীভূত করে দিয়েছেন। যেমন এরশাদ হয়েছে “আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ” এছাড়া আরো অসংখ্য হাদীস ও কোরআনে বর্ণিত আছে।
সুতরাং প্রশ্নে বর্নিত আয়াত দ্বারা তারা যে দলিল পেশ করে থাকে তা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা কেউই আল্লাহর জাতি নূর উদ্দেশ্য নেননি,বরং কেউ তা দ্বারা রাসূল সাল্লাল্লাহু,কেউ কোরআন উদ্দেশ্য নিয়েছেন,তবে সবচেয়ে প্রধান্যতম ব্যখ্যা হলো এখানে নূর দ্বারা “নূরে হেদায়েত” উদ্দেশ্য যা আয়াতের আগ পর দ্বারা বুঝে আসে। আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এর হাদীস দ্বারা ইসতেদলাল করাতো নিতান্তই ভুল, কারণ এটি একটি জাল ও “মওযু” হাদীস যা সুলাইমান নদভী তিনার স্বীয় গ্রন্থ “সীরাতুন্নবীতে” উল্লেখ করেছেন ৷তাই আল্লাহর রাসূলকে যারা আল্লাহর জাতি নূরের তৈরী বলে বিশ্বাস করবে তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত থেকে বের হয়ে যাবে এবং গোমরা বেদাতি এমনকি ইমানচ্যুত হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
(সূরা কাহাফ ১০১, রুহুল মাআনী ৪/ ১৩১ সীরাতুন্নবী আল্লামা সাইয়েদ সুলাইমান নদভী ৩/ ৪১৪)