প্রশ্ন:
জনাব,
কিছুদিন পূর্বে আমার পিতা মরহুম সাদেক আলী সাহেব ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তিনি স্ত্রী হামিদা বেগম ও তিন ছেলে (হামিদুল ইসলাম, মাহদি হাসান, সিফাতী মাহমুদ) ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এবং আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড এ বেশ কিছু টাকা ও বন্ড রেখে যান। তাছাড়া তিনি যেহেতু সরকারী চাকুরীজিবী ছিলেন তাই ট্রাস্ট ব্যাংকে তার সেলারি একাউন্ট ছিল, সেখানেও কিছু টাকা রেখে যান। আর ব্যাংক ছাড়া কিছু ব্যবসার বিনিয়োগ ও সম্পত্তি অর্থাৎ ঘর-বাড়ি, জায়গা-জমিনও রেখে যান।
উল্লেখ্য, তিনি তার জীবদ্দশায় আমার মায়ের নামে বেশকিছু ব্যাংক ব্যালেন্স ও বাড়ি দিয়ে যান।
এখন আমার জানার বিষয় হলো-
১. ব্যাংকের বন্ড ও লভ্যাংশের বিধান কী?
২. স্ত্রীর নামে বাড়ি ও ব্যাংক ব্যালেন্সের বিধান কী? সেটা কি তার একাই? না তাতে অন্যরাও অংশীদার হবে?
৩. উল্লেখিত ওয়ারিশদের মাঝে তার সমষ্টিগত সম্পদ ইসলামী শরীয়াহ মতে ষোল আনা ও শতকরা হারে বন্টন করে দিলে উপকৃত হব।
উত্তর:
الجواب باسم ملهم الصدق والصواب
ইসলামী দৃষ্টিতে শরীয়া মোতাবেক পরিচালিত ব্যাংকগুলো যদি শরয়ী নিয়মনীতি মেনে ব্যাংক পরিচালনা করে, তাহলে তাতে সঞ্চয়কৃত মূলধন, লভ্যাংশ ও তা হতে জারীকৃত বন্ড এবং অর্জিত মুনাফা বন্ডধারী ও একাউন্ট হোল্ডারের জন্য বৈধ।
তাই প্রশ্নে বর্ণিত সাদেক আলী সাহেবের ইসলামী ব্যাংক ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ ও বন্ড লভ্যাংশসহ গ্রহণ করা বৈধ। তবে আমাদের জানা মতে ট্রাস্ট ব্যাংক শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত না হওয়ায় তাতে জমা হওয়া বেতনের টাকার শুধু মূলধন গ্রহণ করা যাবে, লভ্যাংশ নয়।
আর সাদেক আলী সাহেব জীবদ্দশায় স্বীয় স্ত্রীকে কিছু অর্থ সম্পদ দিয়ে পূর্ণ মালিকানা ও ব্যবহারের পূর্ণ ইখতিয়ার প্রদান করার প্রমাণ থাকলে তাতে স্ত্রীর একক মালিকানা সাব্যস্ত হয়ে গেছে। এতে কারো দাবী গৃহীত হবে না। অন্যথায় স্ত্রীর মালিকানায় ও ইখতিয়ারে না দিয়ে শুধু নামে জমা রাখার দ্বারা বা স্ত্রীকে শুধু নমিনী করার কারণে তা স্ত্রীর একক মালিকানা গণ্য হয় না।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে আপনাদের পিতার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে রেখে যাওয়া সঞ্চয় ও বন্ড লভ্যাংশসহ পুরোটাই মিরাসী সম্পদ বলে গণ্য হবে। তেমনিভাবে ট্রাস্ট ব্যাংকে রেখে যাওয়া সেলারির মূলধনও মিরাসী সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আর আপনাদের মায়ের মালিকানায় পূর্ণ ইখতিয়ারসহ দিয়ে দেয়া সম্পদ (যদি তা প্রমাণিত হয়) তা ছাড়া বাকি সব সম্পত্তির মাঝেও আপনারা তিন ভাই ও মা ইসলামী মিরাসনীতি অনুযায়ী অংশীদার হবেন।
বিধায়, বর্ণনাকারীর বর্ণনার সত্যতা প্রমাণে, মরহুম সাদেক আলী সাহেবের স্থাবর-অস্থাবর সমুদয় সম্পত্তি হতে তার কাফন-দাফন, ঋণ আদায় করত: বৈধ অসিয়ত থাকলে অবশিষ্ট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ হতে পালন পূর্বক বাকী সম্পদ বর্ণিত ওয়ারিশদের মাঝে ইসলামী শরীয়াহ মতে ষোল আনা ও শতকরা হারে নিম্নে বন্টন করা হলো:
বন্টন ছক
মরহুম সাদেক আলী সাহেব

الأدلة الشرعية
سورة البقرة: الاية-278-279
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ (278) فَإِنْ لَمْ تَفْعَلُوا فَأْذَنُوا بِحَرْبٍ مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِنْ تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لا تَظْلِمُونَ وَلا تُظْلَمُونَ.
سورةالنساء: الاية-11
يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ وَلأبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ.
صحيح البخارى:رقم:2083
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يُبَالِي الْمَرْءُ بِمَا أَخَذَ الْمَالَ أَمِنْ حَلَالٍ أَمْ مِنْ حَرَامٍ
الهداية:5/237(البشرى)
الهبة عقد مشروع لقوله عليه الصلاة والسلام { تهادوا تحابوا } وعلى ذلك انعقد الإجماع ( وتصح بالإيجاب والقبول والقبض ) أما الإيجاب والقبول فلأنه عقد ، والعقد ينعقد بالإيجاب ، والقبول ، والقبض لا بد منه لثبوت الملك .
الفتاوى الهندية:6/443(زكريا)
وَأَمَّا الثُّمُنُ فَفَرْضُ الزَّوْجَةِ أو الزَّوْجَاتِ إذَا كان لِلْمَيِّتِ وَلَدٌ أو وَلَدُ الابْنٍ … عَصَبَةٌ بِنَفْسِهِ وهو كُلُّ ذَكَرٍ لَا يَدْخُلُ في نِسْبَتِهِ إلَى الْمَيِّتِ أُنْثَى وَهُمْ أَرْبَعَةُ أَصْنَافٍ جُزْءُ الْمَيِّتِ وَأَصْلُهُ وَجُزْءُ أبيه وَجُزْءُ جَدِّهِ كَذَا في التَّبْيِينِ فَأَقْرَبُ الْعَصَبَاتِ الِابْنُ ثُمَّ ابن الِابْنِ وَإِنْ سَفَلَ ثُمَّ الْأَبُ ثُمَّ الْجَدُّ أَبُ الْأَبِ وَإِنْ عَلَا
انعام البارى:6/166(مكتبۃ الحراء)
سود کا صحیح اسلامی متبادل شرکت اور مضاربت کا طریقہ ہے ، جو سود سے بدرجہ اولی اچھے نتائج کا حامل ہے، یہ تمویل کا نہایت مثالی عادلانہ اور منصفانہ طریقہ ہے ، جس کے تقسیم دولت پر بہت اچھے نتائج مرتب ہوتے ہیں، مگر بعض حالات میں مشارکہ او مضاربہ ممکن نہیں ہوتا، ایسے صورت میں چند اور بھی تمویل کے طریقہ ہے ، مثلا مرابحئہ مؤجلہ، اجارہ اور دین کا وثیقہ وغیرہ۔
والله أعلم بالصواب